Breaking News

মন্ত্রীর বাড়ির বিদ্যুৎ বিল মাসে মাত্র ৩২ টাকা!

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল দেখানো হয়েছে মাসে মাত্র ৩২ টাকা! 
এছাড়া কোনো মাসে ৭২ টাকা, আবার কোনো মাসে ৫২ টাকা এবং কোনো মাসে ১১১ টাকা দেখানো হয়।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) দাখিল করা মন্ত্রীর বাড়ির গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৬২০ টাকা, যা এখনো অপরিশোধিত। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এসব বকেয়া জমেছে। মাসের পর মাস বিল পরিশোধ না করা হলেও পাওনা আদায়ে উদ্যোগী হচ্ছে না নেসকো।


নেসকো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের নামে একটি সেচ সংযোগ রয়েছে। এর ডিজিটাল কন্জুমার নম্বর ২৮০০৪৮৯৪ ; মিটার নম্বর ৫১৫৬২৫১৩। এ মিটারে প্রায় চার বছরে ৬১ হাজার ৩৪৪ টাকা বিদ্যুৎ বিল দেখানো হলেও এখনো তা বকেয়া রয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পযর্ন্ত গড়ে প্রতিমাসে সাড়ে ৯ হাজার টাকার বিল দেখানো হলেও জুন ও জুলাই মাসে দেখানো হয়েছে শূন্য বিল

২০২২ সালের মার্চ মাসে ১৭ হাজার ২৩৬ টাকা বিল দেখানো হলেও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে দেখা হয়েছে শূন্য বিল। গত বছর এপ্রিল মাসে বিল দেখানো হয়েছে ৮০৪ টাকা এবং মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিমাসে বিল দেখানো হয়েছে ১৮০ টাকা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের নামে আরও একটি আবাসিক সংযোগ রয়েছে। সেখানেও একই অবস্থা। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে মাত্র ৩২ টাকা। এছাড়া কোনো মাসে ৭২ টাকা, আবার কোনো মাসে ৫২ টাকা এবং কোনো মাসে ১১১ টাকা বিল দেখানো হয়েছে। সর্বোচ্চ একটি বিল ২৪০৮ টাকা দেখানো হয়েছে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে। এ সংযোগেও গত প্রায় চার বছরে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে ১১ হাজার ৬২০ টাকা; যা এখনো বকেয়া রয়েছে।

মন্ত্রীর একমাত্র ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ একজন কলেজ শিক্ষক ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি নেসকোর একজন আবাসিক গ্রাহক। তার বাড়িতে ব্যবহৃত মাসিক বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৭২ টাকা, ১১১ টাকা, ১৫১ টাকা, ১৮৯ টাকা, ২২৯ টাকা ও ৫১২ টাকা। শুধু চলতি বছর জুলাই মাসে সর্বোচ্চ বিল ১৩,৫৬১ টাকা প্রস্তুত করা হয়েছে। গেল প্রায় চার বছরে বিল দেখানো হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৫ টাকা। যা এখনো বকেয়া রয়েছে।

মন্ত্রীর ছোট ভাই শামসুজ্জামান আহমেদ ভুট্টুর একটি বাণিজ্যিকসংযোগে গেল প্রায় চার বছরে বিল বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ১১৩ টাকা। তার নামে একটি সেচ পাম্পের সংযোগও রয়েছে। গেল চার বছর ধরে বিল বকেয়া রয়েছে এক লাখ ৫ হাজার ১১ টাকা। তার বাবা প্রয়াত এমপি করিম উদ্দিন আহমেদের নামে একটি আবাসিক সংযোগ রয়েছে। এ সংযোগটি ব্যবহার করছেন তিনি। এ সংযোগে মাসিক বিল দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ৬৩ টাকা, ১৭২ টাকা, ২৯৪ টাকা ও ২৮০ টাকা। সর্বোচ্চ বিল ৪৯৬ টাকা দেখানো হয়েছে ২০২২ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে। গেল চার বছরে বিল দেখানো হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৭ টাকা। এখনো বকেয়া রয়েছে এসব বিল।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আব্দুল মালেক বলেন, ১৭ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় নেসকো কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নেসকো কর্তৃপক্ষ শুধু সাধারণ গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে; কিন্তু তারা প্রভাবশালী গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিশ্চুপ থাকে। এটা কেমন আইন!

রংপুর নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, অনেক গ্রাহকের বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল আদায়ে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে কোনো গাফিলতি করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তারা খতিয়ে দেখবেন।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে কোনো অসঙ্গতি হয়েছে কি না এবং এসব বকেয়া বিল খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য আগামী সপ্তাহে আমি নিজেই কালীগঞ্জ অফিস যাবো পরিদর্শন করতে। অনিয়ম হলে তা অবশ্যই বিদ্যুৎ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 
এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার ছোট ভাই শামসুজ্জামান আহমেদ ভুট্টুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

তবে মন্ত্রীপুত্র রাকিবুজ্জামান আহমেদ বলেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের টাকা দেয়ার কথা। সেটা দেয়া হয়েছে কি না তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না। যাকে টাকা দেয়া হয়েছে, তার কাছে শুনে এ ব্যাপারে বলতে হবে।

Type and hit Enter to search

Close