সর্বশেষ
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পেলেন না নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না। সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়।
অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার।
শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
দুবাই–আবুধাবিতে পরপর হামলার ভয়ে দিন পার করছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর দিকে প্রায় দুই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলায় মূলত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীরা, বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবির মতো ব্যস্ত নগরীগুলোতে বসবাসরত শ্রমজীবী ও পেশাজীবীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
একই সময়, দেশের অন্যতম প্রধান তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দর-এ হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এছাড়া রাজধানী আবুধাবি-র উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলার খবর পাওয়া যায়।
বিবিসি-এর সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে—তাদেরকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তার মতে, ইরানের লক্ষ্য হতে পারে এই চাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র-কে কূটনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা। তবে এতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষোভই বাড়ছে।
কাবুলে হাসপাতাল লক্ষ্য করে বিমান হামলা? ৪০০ নিহতের দাবি, তীব্র পাল্টা অস্বীকার পাকিস্তানের
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। এ ঘটনায় আরও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ২ হাজার শয্যার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং বহু রোগী ও কর্মী হতাহত হন। উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কেবল ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কোনো বেসামরিক স্থাপনা বা হাসপাতালকে লক্ষ্য করা হয়নি এবং ঘটনাটি ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
প্রেক্ষাপট
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সীমান্তে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি দুই দেশের সম্পর্ককে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে, যদি তথ্য বিভ্রান্তি হয়ে থাকে, তবে এটি তথ্যযুদ্ধের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হবে।
ঈদ সামনে: সখীপুরের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়, ইফতারের পর বাড়ছে কেনাকাটা
পবিত্র Eid al-Fitr সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সখীপুর শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মার্কেটে চলছে জমজমাট কেনাকাটা। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ঢল বাড়ছে, সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শহরের শামীম টাওয়ার, খান মার্কেট, পোড়া মার্কেট, আজিজ মার্কেট, শিকদার শপিং কমপ্লেক্স, সূর্য জ্যোতি শপিং কমপ্লেক্স, এস.আর শপিং মল এবং নিজুম ফ্যাশন শপিং মল–এ এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফুটপাতের ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং কমপ্লেক্স—সব জায়গাতেই ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ মানুষের হাতেই দেখা যাচ্ছে নতুন পোশাক ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শপিং ব্যাগ।
ব্যবসায়ীরা জানান, চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস হাতে পাওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের লেনদেন বাড়ায় রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা।
শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষ নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও ঈদ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দেশি-বিদেশি রেডিমেড থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি এবং নতুন ডিজাইনের পোশাক।
এদিকে শহরের দর্জি দোকানগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেকেই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বানাতে থান কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।
শামীম টাওয়ারের এক পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, “রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে রাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে।”
আরেক ব্যবসায়ী জানান, এবার ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় উন্নতমানের সুতি কাপড়ের চাহিদাও বেশ ভালো। তরুণ-তরুণীরা নতুন ডিজাইনের পোশাক বেশি খুঁজছেন।
ক্রেতারাও ঈদের কেনাকাটায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এক ক্রেতা বলেন, “ঈদ সামনে রেখে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। বাজারে অনেক নতুন নতুন পোশাক এসেছে, তাই কেনাকাটাও বেশ ভালো লাগছে।”
ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সখীপুর শহরের মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ সপ্তাহে কেনাকাটার চাপ আরও বাড়বে।
নিজের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফেরা ইতালী প্রবাসীর ব্যতিক্রমী প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন ইতালি প্রবাসী লাল মাহমুদ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের স্থলবল্লা গ্রামে হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী আগমনে এলাকায় সৃষ্টি হয় কৌতূহল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
এর আগে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport–এ পৌঁছান লাল মাহমুদ। সেখান থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে সরাসরি নিজ গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। লাল মাহমুদ স্থলবল্লা গ্রামের বাসিন্দা সালামত হাজীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে লিবিয়া হয়ে ইউরোপের দেশ Italy–তে পাড়ি জমান লাল মাহমুদ। প্রায় ১৩ বছর প্রবাসে কাটানোর পর প্রথমবারের মতো দেশে ফেরেন তিনি। এই স্মরণীয় মুহূর্তকে বিশেষ করে তুলতেই হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন।
হেলিকপ্টারে করে গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। গ্রামের বাড়ির সামনে ভিড় জমান উৎসুক মানুষ। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ফুলের তোড়া ও মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন স্বজনরা। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসাইল থানা পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ইতালি প্রবাসী লাল মাহমুদ বলেন,
“২০১৪ সালে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাই। ইতালি যাওয়ার পর এই প্রথম দেশে ফিরলাম। মনে একটা আবেগ আর স্বপ্ন ছিল—নিজ গ্রামে হেলিকপ্টারে করে ফিরব। আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার খুবই আনন্দিত।”
ছেলের এমন ব্যতিক্রমী আগমনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন মা শেফালি বেগম। তিনি বলেন,
“আমাদের গ্রামে এই প্রথম কেউ হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরেছে। আমার ছেলে করেছে বলে মা হিসেবে আমি খুবই খুশি ও গর্বিত।”
দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর লাল মাহমুদের এই ব্যতিক্রমী বাড়ি ফেরা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।