সর্বশেষ

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

ঈদ সামনে: সখীপুরের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়, ইফতারের পর বাড়ছে কেনাকাটা

ঈদ সামনে: সখীপুরের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়, ইফতারের পর বাড়ছে কেনাকাটা

 


পবিত্র Eid al-Fitr সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সখীপুর শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মার্কেটে চলছে জমজমাট কেনাকাটা। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ঢল বাড়ছে, সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

শহরের শামীম টাওয়ার, খান মার্কেট, পোড়া মার্কেট, আজিজ মার্কেট, শিকদার শপিং কমপ্লেক্স, সূর্য জ্যোতি শপিং কমপ্লেক্স, এস.আর শপিং মল এবং নিজুম ফ্যাশন শপিং মল–এ এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ফুটপাতের ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং কমপ্লেক্স—সব জায়গাতেই ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ মানুষের হাতেই দেখা যাচ্ছে নতুন পোশাক ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শপিং ব্যাগ।

ব্যবসায়ীরা জানান, চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস হাতে পাওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের লেনদেন বাড়ায় রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা।

শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষ নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও ঈদ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দেশি-বিদেশি রেডিমেড থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি এবং নতুন ডিজাইনের পোশাক।

এদিকে শহরের দর্জি দোকানগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেকেই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বানাতে থান কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।

শামীম টাওয়ারের এক পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, “রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে রাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী জানান, এবার ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় উন্নতমানের সুতি কাপড়ের চাহিদাও বেশ ভালো। তরুণ-তরুণীরা নতুন ডিজাইনের পোশাক বেশি খুঁজছেন।

ক্রেতারাও ঈদের কেনাকাটায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এক ক্রেতা বলেন, “ঈদ সামনে রেখে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। বাজারে অনেক নতুন নতুন পোশাক এসেছে, তাই কেনাকাটাও বেশ ভালো লাগছে।”

ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সখীপুর শহরের মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ সপ্তাহে কেনাকাটার চাপ আরও বাড়বে।

নিজের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফেরা ইতালী প্রবাসীর ব্যতিক্রমী প্রত্যাবর্তন

নিজের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফেরা ইতালী প্রবাসীর ব্যতিক্রমী প্রত্যাবর্তন


 দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন ইতালি প্রবাসী লাল মাহমুদ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের স্থলবল্লা গ্রামে হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী আগমনে এলাকায় সৃষ্টি হয় কৌতূহল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

এর আগে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport–এ পৌঁছান লাল মাহমুদ। সেখান থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে সরাসরি নিজ গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। লাল মাহমুদ স্থলবল্লা গ্রামের বাসিন্দা সালামত হাজীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে লিবিয়া হয়ে ইউরোপের দেশ Italy–তে পাড়ি জমান লাল মাহমুদ। প্রায় ১৩ বছর প্রবাসে কাটানোর পর প্রথমবারের মতো দেশে ফেরেন তিনি। এই স্মরণীয় মুহূর্তকে বিশেষ করে তুলতেই হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন।

হেলিকপ্টারে করে গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। গ্রামের বাড়ির সামনে ভিড় জমান উৎসুক মানুষ। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ফুলের তোড়া ও মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন স্বজনরা। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসাইল থানা পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইতালি প্রবাসী লাল মাহমুদ বলেন,
“২০১৪ সালে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাই। ইতালি যাওয়ার পর এই প্রথম দেশে ফিরলাম। মনে একটা আবেগ আর স্বপ্ন ছিল—নিজ গ্রামে হেলিকপ্টারে করে ফিরব। আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার খুবই আনন্দিত।”

ছেলের এমন ব্যতিক্রমী আগমনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন মা শেফালি বেগম। তিনি বলেন,
“আমাদের গ্রামে এই প্রথম কেউ হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরেছে। আমার ছেলে করেছে বলে মা হিসেবে আমি খুবই খুশি ও গর্বিত।”

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর লাল মাহমুদের এই ব্যতিক্রমী বাড়ি ফেরা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঈদযাত্রার চাপ বাড়ছে: যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের ঢল, একদিনে টোল আদায় ২ কোটি ৩৯ লাখ

ঈদযাত্রার চাপ বাড়ছে: যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের ঢল, একদিনে টোল আদায় ২ কোটি ৩৯ লাখ


ঈদকে সামনে রেখে দিন দিন বাড়ছে যানবাহনের চাপ। ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল থেকেই যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে Jamuna Bridge পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে মোট ২৫ হাজার ৪৪০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই যানবাহনগুলো পারাপার হয়। এর মধ্যে ঢাকাগামী যানবাহন ছিল ১২ হাজার ৯৮১টি, যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন ছিল ১২ হাজার ৪৫৯টি, যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী Syed Riaz Uddin জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হবে। এর মধ্যে উভয় পাশে দুটি করে বুথ মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করা যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে Jamuna Bridge–এ নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে। আগে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস) এই টোল আদায়ের দায়িত্বে ছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের শেষের দিক থেকে বর্তমানে টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করছে China Road and Bridge Corporation

ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গোপালপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

গোপালপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) গোপালপুর উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। খাল খননের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে এই বৃহৎ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, সংসদ সদস্য (টাঙ্গাইল-২) সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য নদী-নালা ও খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন অবহেলা ও ভরাটের কারণে অনেক খাল-নদী তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাও সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিনির্ভর জীবিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু তার বক্তব্যে বলেন, এই খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি সরকারের এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী বলে উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের প্রাকৃতিক জলাধারগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গোলাবাড়ী এলাকায় শুরু হওয়া এই খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

 

মাদারগঞ্জে আত তাক্বওয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫২টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদের বাজার বিতরণ।

মাদারগঞ্জে আত তাক্বওয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫২টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদের বাজার বিতরণ।

আত তাক্বওয়া ফাউন্ডেশন একটি মানবিক, সেবামূলক ও সমাজকল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান, যা অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো মানবসেবা, ন্যায়নীতি, ইসলামী মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে একটি সুন্দর ও সহমর্মী সমাজ গড়ে তোলা।
প্রতিষ্ঠানটি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব, ঈদ উপহার বিতরণ, ইফতার সামগ্রী প্রদান, জরুরি সহযোগিতা এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। আত তাক্বওয়া ফাউন্ডেশনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তারা নীরবে, আন্তরিকতার সাথে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানবকল্যাণে কাজ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ মাদারগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার ৫২টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদের বাজার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এই সহায়তা পেয়ে উপকৃত পরিবারগুলো আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আত তাক্বওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী, আমানতদার ও মানবিক মানসিকতার অধিকারী। তারা বিশ্বাস করে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।
“মানবসেবা ও ইনসাফের পথে — আত তাক্বওয়া ফাউন্ডেশন” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
জিয়াউর রহমানের শুরু করা খালে নতুন প্রাণ: উদ্বোধনে তারেক রহমান

জিয়াউর রহমানের শুরু করা খালে নতুন প্রাণ: উদ্বোধনে তারেক রহমান


 দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় সোমবার সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধরা। তারা হাত নেড়ে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা করা হয়। একইসঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের কাছে এই কর্মসূচির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে এই সাহাপাড়া খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন। সেই স্মৃতি তুলে ধরে ৭৪ বছর বয়সী কুলসুম বেগম বলেন, “শহীদ জিয়া তখন মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কাজ করেছিলেন। আজ তার ছেলে সেই পথই অনুসরণ করছেন।”

এর আগে সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি সৈয়দপুর শহর অতিক্রম করে দিনাজপুরের বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় যান। পথে স্থানীয়রা হাত নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট ও অবহেলার কারণে বেহাল অবস্থায় ছিল। শিউলী খাতুন নামে এক গৃহবধূ বলেন, “খালটি পুনঃখনন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে।”

খালটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। নদীর পানি ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করে পরে মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশে যায়। খালটি পুনঃখনন হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, মাছ চাষ ও হাঁস-পালনের মতো খালনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, “খালে পানি থাকলে মাছ চাষ করা যাবে, দুই পাড়ে গাছ লাগালে সবুজ বনায়ন হবে। এতে গ্রামের পরিবেশও উন্নত হবে।”

স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প নয়; বরং এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে ইতিহাসের একটি ধারাবাহিকতাকেও তুলে ধরছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস, আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস, আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে



স্টাফ রিপোর্টার:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে সিঙ্গাপুরের একটি শীর্ষ হাসপাতালে নিউরোসায়েন্সেস বিভাগের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে মির্জা আব্বাস নিরাপদে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস, ছেলে ইয়াসীর আব্বাস এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাফর ইকবাল

৭৫ বছর বয়সী মির্জা আব্বাস গত বুধবার ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিউরো বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার তার মস্তিষ্কে প্রায় পৌনে চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।