টাঙ্গাইলে নিজের ১৮ দিন বয়সী শিশুপুত্রকে হত্যার দায়ে আয়না বেগম (২৪) নামের এক নারীকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আয়না বেগম মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জহিরুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট সকালে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম জানতে পারেন, তাদের ১৮ দিন বয়সী ছেলে রায়হান নিখোঁজ রয়েছে। পরে তিনি শ্বশুরবাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী এলাকায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
