ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং (HVAC) সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শেখার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১৫ মার্চ তাদের যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দুই দফা সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সরকার ২০১৯ সালে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয়। আধুনিক হাসপাতাল পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (HVAC)’ সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের খরচ বহন করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ (Dunham-Bush)।
প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘সেফটি ফ্যাসিলিটিস, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অব এইচভিএসি সিস্টেম’ শীর্ষক পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রথমে ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি সফরের সময় নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সেই সময়েও কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র যেতে পারেননি। সবশেষ ৪ মার্চ আবার নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়েছে ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এসব আধুনিক হাসপাতালের এইচভিএসি সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ওপরই থাকবে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর হাসপাতাল পরিচালনায় এই প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে বিদেশ সফরের খরচ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বহন করা এবং বারবার সফরের তারিখ পরিবর্তন হওয়া নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে এসব প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ হওয়া জরুরি।

