পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) গোপালপুর উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। খাল খননের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে এই বৃহৎ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, সংসদ সদস্য (টাঙ্গাইল-২) সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য নদী-নালা ও খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন অবহেলা ও ভরাটের কারণে অনেক খাল-নদী তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিনির্ভর জীবিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু তার বক্তব্যে বলেন, এই খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তিনি সরকারের এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী বলে উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের প্রাকৃতিক জলাধারগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গোলাবাড়ী এলাকায় শুরু হওয়া এই খাল খনন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
