বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

দুই বছরে ৪৩ কোটি আত্মসাৎ! অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা দুবাইয়ে পলাতক


 নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত Agrani Bank PLC-এর একটি শাখায় চাঞ্চল্যকর অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংকটির সৈয়দপুর শাখার ভল্ট ও বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে বলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল, যিনি বর্তমানে পলাতক।

ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্ত পরিচালনা করেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল। তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরে ব্যাংকের বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ব্যাংকের অর্থ সরানো হয়। মোট আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা

এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয় রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। এছাড়া ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও ৪৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, ওই টাকা তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাওনা হিসেবে পেয়েছিলেন। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সহকর্মীদের অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সেগুলোর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

তবে শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এত বড় অঙ্কের অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে সরানো একজন কর্মকর্তার পক্ষে করা কঠিন। তাদের দাবি, ঘটনার পেছনে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অর্থ অপসারণের বিষয়টি তার নজরে না আসা নিয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার কাঞ্চনপাড়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে রংপুর শহরের রহমতপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সপরিবারে বিদেশে চলে যান। তার বড় ভাই জানিয়েছেন, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে Anti-Corruption Commission Bangladesh (দুদক)-কে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল এবং শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোটি কোটি টাকা সরানো হলেও তা সময়মতো ধরা না পড়ায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, আইটি নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

এখন দেখার বিষয়—তদন্তের পর প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে অর্থ উদ্ধারে কতটা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


শেয়ার করুন

Author:

TangailNews24 Advertisement Partnership