INFO Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

২০ জুলাই ফেরার কথা ছিল, সখীপুর্ত নাদীপ ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

২০ জুলাই ফেরার কথা ছিল, সখীপুর্ত নাদীপ ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

বাবাকে দেখার আগেই এতিম হলো ৮ মাসের সন্তান আয়ান। সৌদি আরবে সড়ক স্ট্রোক জনিত কারণে প্রাণ গেল সখীপুরের নাদীপের।

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: আট মাস বয়সী সন্তান আয়ান। পৃথিবীতে আসার পর থেকেই বাবাকে শুধু মোবাইল ফোনের পর্দায় দেখেছে। দেশে ফিরে সন্তানদের কোলে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই দিন গুনছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই সৌদি আরবে স্ট্রোক জনিত কারণে প্রাণ হারালেন টাঙ্গাইল সখীপুর উপজেলার বড়চওনা পাগলমোড় এলাকার প্রবাসী যুবক নাদীপ হোসেন (২৫)।

গত (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টার দিকে সৌদি আরবে কাজের সময় হঠাৎ করেই স্ট্রোক করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাদীপ। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রবাস জীবনের কঠোর সংগ্রাম বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর জন্ম নেয় তার একটি ছেলে সন্তান। সন্তানের জন্মের সময় তিনি সৌদি আরবে থাকায় তাদের সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি।

আগামী ২০ জুলাই নাদীপের দেশে ফেরার সকল কাগজপত্র এবং মাল ছামানা গোছানো হয়েছিলো বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ফিরলেন ঠিকই তবে কফিন বন্দি লাশ হয়ে।

স্বজনরা জানান, নিয়মিত ভিডিও কলে স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজখবর নিতেন নাদীপ। সন্তানকে দেখে আনন্দিত হলেও আক্ষেপ করে বলতেন, “কবে যে বাচ্চাদের কোলে নিতে পারব।” দেশে ফিরে সন্তানকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন সাজানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই সুযোগ আর হলো না।

নাদীপের বাবা মো. লিটন মিয়া তিনিও পরিবারের সুখের জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু ভাগ্য বড় নির্মম প্রবাস জীবন থেকে তিনিও আর ফিরে আসতে পারেননি। তিনিও কফিন বন্দি হয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর আগে দেশে আসেন। তার মৃত্যু সৌদি আরবেই হয়। বাবা এবং ছেলের একই ধরণের মৃত্যু হয় সৌদি আরবে যা পরিবার এবং এলাকাবাসী কোন ভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেননা।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নাদীপ। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভর করত পুরো পরিবার।
নাদীপের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্ত্রীব্র,মা,দাদী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। আর কিছুই না বোঝা আট মাস বয়সী সন্তান মায়ের পাশে নিশ্চুপ শুয়ে আছে। সে জানে না, তাদের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা মানুষটি আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নাদীপ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো,তার সন্তান বাবার স্নেহ পাওয়ার আগেই পিতৃহারা হলো।”

এদিকে নিহত নাদীপ হোসেনের মরদেহ দেশে এসেছে আজ রাত ১০ টায়। শেষবারের মতো তার মুখটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। পরিবারের সুখের জন্য যে মানুষটি হাজার মাইল দূরে প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছিলেন, তিনি ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে। আর তার আট মাস বয়সী সন্তানের জীবনে বাবার স্মৃতি হয়ে থাকবে শুধু কিছু ছবি আর স্বজনদের মুখে শোনা গল্প।

আগামীকাল ১৩ জুলাই ২০২৬ সকাল ৯ টায় তার জানাযা নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
⚡ সীমিত আসন — ভর্তি চলছে LifeX Technology • সখীপুর