সখীপুরে এক রাতে কৃষকের তিন গাভীর মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক কৃষকের একই রাতে তিনটি গর্ভবতী গাভীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় কৃষক মো. আজাহার সখীপুর থানাসহ সরকারের তিনটি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। 

মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে উপজেলা পশুসম্পদ বিভাগ ঘাস, খড় ও পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর গুলিস্তানে প্রাণিসম্পদ রোগনিয়ন্ত্রণ ও অনুসন্ধান বিভাগে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় সখীপুরের ওই গ্রামের খামারি ও কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামিউল বাছির। 

তিনি বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিনটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বোয়ালী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পশুখাদ্য, ওষুধের দোকানদার ও হাতুড়ে পশুচিকিৎসক মোজাম্মেল হককে (৬০) পশুখাদ্য বিক্রির লাইসেন্স না থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। 

গাভীর মৃত্যুর সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম। তবে বোয়ালী গ্রামের কৃষক মো. আজাহার তাঁর গাভীর মৃত্যুর জন্য ওই গ্রামের পশুখাদ্য ও ওষুধের দোকানদার মোজাম্মেল হককে দায়ী করে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১০ মে রাতে হঠাৎ করে কৃষক আজাহার আলীর তিনটি গর্ভবতী গাভী মারা যায়। তিনটি গাভীর বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। কৃষক আজাহার দাবি করেন, হাতুড়ে চিকিৎসক মোজাম্মেলের পরামর্শে গাভীকে ওষুধ ও ওই চিকিৎসকের দোকান থেকে আনা ভেজাল খাদ্য খাওয়ানোর কারণেই তাঁর তিনটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনায় মো. আজহার সখীপুর থানায়, ইউএনও দপ্তর ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরাবর তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বোয়ালী গ্রামের এক কৃষকের এক রাতেই তিনটি গাভীর মৃত্যুতে গ্রামের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নান্নু মিয়া নামের এক কৃষক প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, এক বছর আগে হাতুড়ে চিকিৎসক মোজাম্মেলের পরামর্শে চিকিৎসা করানোর কারণে তাঁরও তিনটি গরু মারা গিয়েছিল। 

তিনি মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা পাওয়া পশুখাদ্য ও ওষুধের দোকানদার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি খাদ্য ও ওষুধ বিক্রি করি। আমি কোনো চিকিৎসক নই। আমার দোকানের লাইসেন্স না থাকায় আমাকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আমি লাইসেন্স করার চেষ্টা করছি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সামিউল বাছির বলেন, গতকাল তাঁর দপ্তরে এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। এর আগের দিন বুধবার তিনি গাভীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাস, খড় ও দোকান থেকে কেনা খাদ্যের তিনটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠান। প্রাথমিক তদন্তে কোনো রোগে নয়, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই গাভী তিনটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ওই গ্রামের কৃষকদের গরুর রোগ হলে হাতুড়ে চিকিৎসক নয়, প্রাণী হাসপাতালের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, কৃষক আজহার থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। পশুসম্পদ বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করছেন। তাঁরা তদন্তে দোকানদার মোজাম্মেলকে দোষী সাব্যস্ত করলে তারপর মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে।

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top