সখীপুরে রমজানে লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে জনজীবনে ভোগান্তি চরমে

চলছে পবিত্র মাহে রমজান, গ্রীষ্মের তীব্র গরম, মাঠে সেচ নির্ভর প্রধান ফসল বোরো ক্ষেতে পানি দেওয়ার চূড়ান্ত মূহুর্ত ঠিক এই সময়ে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের লোড শেডিং ও লো ভোল্টেজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রাহকরা। 

এই রমজানে সেহরী ও ইফতারের সময় ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়া আর বোরো ক্ষেতের চূড়ান্ত সেচের সময় সঠিকভাবে সেচ দিতে না পেরে চরম বিপাকে আছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।

দিনে কমপক্ষে ১২-১৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। আবার যতটুকু সময় বিদ্যুৎ থাকছে তা যেন পাল্লা দিয়ে পরিমাপ করে ভোল্টেজে দিচ্ছে তাতে সচল থাকছে না প্রি-প্রেইড মিটারো। এতে বৈদ্যতিক চার্জে চালিত অটোভ্যান চলকরাও দিশেহারা হয়ে পড়ছে। । 

এ দিকে লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র ক্ষোভ নিয়ে গরম উপেক্ষা করে রমজানে সেহরী ও তারাবি নামাজ আদায় করছে ধর্মপ্রাণ মুসলমান। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে বিদ্যুতের লোড শেডিং ও লো ভোল্টেজ। 

রমজানে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ উপজেলাবাসী। লো ভোল্টেজে প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যতিক বাল্ব, সিলিং ফ্যান, পানির পাম্প, সেঁচ মেশিনসহ ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রাংশ। 

কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বলেও কোনও সুরাহা হয়নি। এদিকে বুধবার এবিষয়ে রিপোর্ট লেখার সময় ৩০ মিনিটের লোড শেডিং দেখা দেয় তিনবার।উপজেলার কীর্ত্তণখোলা গ্রামের বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী ওস্তাত মোশারফ হোসেন বলেন, কয়েকদিন যাবৎ বেপরোয়া লোডশেডিং তো আছেই এরমধ্যে আছে আবার লো ভোল্টেজ । লো ভোল্টেজের কারণে আমার এলাকার অনেক বাড়িতে প্রি-প্রেইড মিটার বন্ধ হয়ে আছে। ইফতার ও সেহরী সময় পানির সংকটে পড়তে হয়। কারণ লো ভোল্টেজে মিটার চালু হয় না আর তো পাম্পে পানি ওঠবে তা ভাবাই যায় না ।

প্রতিমা বংকী গ্রামের শফিকুল বলেন, সারাদিন অটো ভ্যানচালিয়ে যা আয় করি তাই আমার সংসারের চার মুখের আহার জুটে। কিন্তু রমজান আসার পর থেকে লো ভোল্টেজ ও লোডশেডিং এর কারণে ব্যাটারীতে চার্জ ওঠে না । আমার সংসার কেমনে চলবে?

একই গ্রামের রেজাউল তালুকদার বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় দেখি দেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই তাহলে দিনে ১০-১২বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে কেন? এতে বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।

উপজেলার যাদবপুর এলাকার কৃষক নবাবআলী বলেন , সারাদিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। কয়েকদিনের খরায় ফসলে পানির দরকার হলেও লোড শেডিংয়ের জন্য ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না। এতে করে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সখীপুর ফ্যাশন টাচ্ শপিংমলের মালিক মোবারক হোসেন বলেন, রাত-দিন সব সময় লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমে ক্রেতারাও স্বস্তিতে দোকানে বসতে পারছে না । এটার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার। না হয় আমরা দোকানের মালিকরা লোকশানে পড়বো।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল বলেন, শহর থেকে গ্রাম সকল শ্রেণির মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রত্যাশা করে। এখন বোরো ধান এবং সেচের চূড়ান্ত সময় তার ওপর তীব্র গরম ও রমজান কাজেই এ সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা খুবই ক্ষতিকর। 

বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগরে কর্মকর্তাদরে সাথে বৈঠক করা হবে।এ বিষয়ে সখীপুর পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ) বিভাগরে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, কিছুদিন ধরে জাতীয় গ্রীড ভোল্টেজ কম পাচ্ছি। আর এ সময় সারা দেশেই লোডশেডিং কমবেশি থাকে। আমরা উপর মহলে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি শীঘ্রই সমাধান হবে।

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top