সখীপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ!

টাঙ্গাইলের সখীপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন হচ্ছে খাল। দায়সারাভাবে খাল পুনঃখননের পর তা কোন কাজেই আসবে না স্থানীয়দের। 

অন্যদিকে খালের মাটি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের শাইল সিন্দুর খাল খননে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধিত এবং এলজিইডির ক্রাইটেরিয়া পরিপূর্ণকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এরপর তাদের কাজের প্ল্যান এবং ডিজাইন বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটে স্থানীয় শাইল সিন্দুর খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে শাইল সিন্দুর খালের ১৮০০ মিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পে সরকার বহন করবে মোট খরচের অর্ধেক অর্থাৎ ১৮ লক্ষ টাকা।

অন্যদিকে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাকী অর্ধেক খরচ মেটানো হবে। তবে কাজ শুরু হওয়ার পর ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খাল পুনঃখননের পর নূন্যতম মাটি উঠছে না পাড়ে। এছাড়া যেটুকু মাটি কাটা হচ্ছে তাও সন্তুষ্টি জনক নয়। 

ফলে বৃষ্টিতে উত্তোলনকৃত মাটি ধুয়ে পুনরায় খালে চলে যাবে। এতে করে অল্পসময়ে পুনরায় খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সরকারের এ অর্থ জনগণের কোন কাজেই আসবে না।

অন্যদিকে খাল খনন করে খালের মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ট্রাক প্রতি ৬০০-৭০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ও সময়সুযোগে অন্য একটি ভেকু বসিয়ে খালের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। 

ফলে ধান চাষের উপর নির্ভরশীল কয়েকটি গ্রামের মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়বে।

স্থানীয় ভেকু মালিক ইয়াকুব আলী বলেন, খাল খনন সমিতির সভাপতির অনুমতি নিয়েই খালে ভেকু বসিয়ে মাটি কেটে কিছু মাটি বিক্রি করা হয়েছে। এখন মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় চকপাড়া গ্রামের কদ্দুস মিয়া জানান, আমার একটি খাদ খালের মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। প্রতি ট্রাক মাটি ৬০০ টাকা করে কিনে গফুর মিয়ার সাথে (প্রকল্পের সভাপতি) চুক্তি করে খাদটি ভরাট করেছি।

শাইল সিন্দুর খাল পানি ব্যবস্থান সমবায় সমিতির লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক করিম বলেন, উদ্বোধনের সময় শুধু আমি গিয়েছিলাম। এরপর থেকে সভাপতি নিজেই তদারকি করে খননের কাজ করছে। অনিয়ম হচ্ছে না নিয়মেই হচ্ছে আমি কিছুই জানি না।

প্রকল্পটির তদারকিতে থাকা শাইল সিন্দুর খাল পানি ব্যবস্থান সমবায় সমিতির লিঃ এর সভাপতি মেহেদি হাসান গফুর বলেন, খাল খনননের কাজ প্রায় শেষ হলেও এখনও বিল দিচ্ছেনা। তেলের টাকার জন্য অল্প কিছু মাটি বিক্রি করা হয়েছে। 

এ নিয়ে উপরে ফোন দিয়েছেন কে? প্রকল্পটি পাশ করতে আমার প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছে। খরচ করে প্রকল্প আনলেও খাল খননে কোন অনিয়ম হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী বিদ্যু কুমার দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top