দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে টাঙ্গাইলে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সমাবেশ ও র‌্যালী।

চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যপন্যের দাম কমানো, জ্বালানী তেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাতীয় জাগরন গড়ে তোলোর দাবিতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ও র‌্যালী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(১ মার্চ) সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের দেশব্যাপী সমাবেশ ও র‌্যালী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশটি স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এক র‌্যালী শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি হাজী মুহাঃ সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হোসেন। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মিলন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি লায়ন জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম মিন্টু, শিশু প্রতিভা বিকাশ সংগঠনের সভাপতি নিপু সিদ্দিকী, সাপ্তাহিক সময় তরঙ্গ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং সংগঠনের সদস্য হেমায়েত হোসেন হিমু, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সভাপতি সোহেল সোহরাওয়ার্দী, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার সজীব রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস আরা ডায়না, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ টাঙ্গাইল সদর শাখার সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী সভাপতি আব্দুল জলিল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এনাদি হোসেন খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ সিয়াম মিয়া, কার্যকরী সদস্য মোঃ হৃদয় হোসাইনসহ জেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

"সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন
সমাবেশের ঘোষণা।

১৯৭১ সালে একটি সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী গণযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। লক্ষ্য ছিল একটি ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও বাংলাদেশের মানুষকে লড়তে হচ্ছে গণতন্ত্র ও সমতার জন্য। বাংলাদেশের ১ শতাংশ বিত্তবানের হাতে রয়েছে মোট আয়ের ১৬.৩ শতাংশ। প্রতি বছর দেশে নতুন করে কোটিপতি হচ্ছে ৫ হাজার। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন করে দেশে গরীব হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ। গত বছরে মার্চেও এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ। অর্থাৎ ৬ মাসে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ৭৯ লাখ মানুষ। বাংলাদেশে ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
গত বছর নতুন করে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর মতো কৌশলগত পন্যের দাম বাড়ালে এর প্রভাব পড়ে উৎপাদনে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্যের দাম বেড়ে যায়।
গত এক দশকে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বেড়েছে ১২৯ শতাংশ। বাসায় রান্নায় ব্যবহৃত দুই চুলার গ্যাসের মাসিক বিল ৪০০ টাকা থেকে ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে। যা এখন বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও পানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে।  এসব খাতের দূর্নীতি, সিষ্টেম লস, অদক্ষতা দূর না করে গ্রাহক পর্যায়ে বার বার দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। 
খাদ্যপন্যের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ভোজ্য তেলের দাম দফায় দফায় বেড়েছে। শীতের সবজী, মাছ, মাংসসহ প্রায় সব খাদ্যপন্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রমজানকে কেন্দ্র করে আরেক দফা দাম বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থায় একটি দুষ্টচক্র বিশেষ করে অসাধু সিন্ডিকেট, মজুদদার ও অতি মুনাফালোভী চক্রের দাপট পরিলক্ষিত হলেও এটি ভাঙ্গা বা দমনের কোন উদ্যোগ নেই। সরকারী ব্যবস্থাপনায় টি,সি,বি-র মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয় তা চাহিদার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। খাদ্য সামগ্রীর দাম কমানোর পাশাপাশি টি,সি,বি-র বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো খুবই জরুরী। 
দাবি সমূহঃ
চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যপন্যের দাম কমাতে হবে।
জ্বালানী তেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না।
মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাতীয় জাগরন গড়ে তোলো।

ঢাকা, ১ মার্চ ২০২২"

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top