শনিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২২

প্রেসিডেন্টের সংলাপে অংশ নিচ্ছেনা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

নির্বাচন গঠনে প্রেসিডেন্টের সংলাপে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দলটি অংশ নিবে কী না তা’ পর্যালোচনা করে পরে জানানো হবে বলে দলের আমীর জানিয়েছেন। আজ দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ আইবিএ মিলনায়তনে প্রেসিডেন্টের সংলাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই লিখিত বক্তব্যে এতথ্য জানান। পীর সাহেব চরমোনাই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ২০১২ ও ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্টের সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি।

পীর সাহেব বলেন, ২০১২ এর সংলাপে গঠিত নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে একতরফা নির্বাচন এর আয়োজন করেছে। যেখানে ১৫৩ জন এমপিকে বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় বিজয়ী দেখানো হয়েছে। আর ২০১৭ এর সংলাপের পর গঠিত কমিশন ১০১৮ সালে একটি চরম বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করেছে। যা’ অনেকেই মধ্যরাতের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। এই দুই জাতীয় নির্বাচন এতটাই বিতর্কিত ও জালিয়াতিতে পূর্ণ যে, তা জাতি হিসেবে আমাদেরকে চরম হতাশ, বিব্রত ও লজ্জিত করেছে। এই ইসির নিয়োগকর্তা প্রেসিডেন্টর এসব কলঙ্কময় নির্বাচনের দায়ে তারই গঠিত কমিশনকে কোন রকম জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি; কোন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে প্রেসিডেন্টের সাথে পূর্বের সংলাপকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া অতীতের দুটি সংলাপে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের গঠনমূলক প্রস্তাবগুলোর কোনটাই মূল্যায়ন করা হয়নি। যে দল তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে, তিনি সেই দলীয় স্বার্থের বাইরে যেতে পারেননি। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপকি আশরাফ আলী আকন, দলীয় মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দলের মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, দক্ষিণের সভাপতি প্রিন্সিপাল ফজলে বারি মাসউদ, ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র প্রার্থী আলহাজ আব্দুর রহমান, মাওলানা আহম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, মাওলানা কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা নেজার উদ্দিন।

একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে বৈধ এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম হলো নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায়ের যথার্থ বহিপ্রকাশ ঘটে। এ জন্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে জন্মের পর থেকে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ জাতীয় পার্টির অধীনে অনুষ্ঠিত হাস্যকর নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারী তৎকালীন বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচন; এই তিনটি চরম বিতর্কিত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া বাকি সবগুলো অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে এবং এককভাবে অংশ নিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনকল্যাণে নিবেদিত একটি দেশপ্রেমিক শান্তিকামী রাজনৈতিক দল হিসেবে জনমতের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল।

তাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দেশের জনগণের অনুভূতি, দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর পরামর্শ ও মতামত এবং সিভিল সোসাইটির পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকে অধিকতর মূল্যায়ন করে থাকে। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ে প্রেসিডেন্টের সংলাপ নিয়ে দেশের চিন্তাশীল মহল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে আমরা কোন আগ্রহই দেখতে পাচ্ছি না। বরং জনগণ মনে করছে, প্রেসিডেন্টের চলমান সংলাপে ফলপ্রæসূ কিছু হবে না। অতীতের দুটি সংলাপ যেমন জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, চলমান সংলাপেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে জনগণ মনে করে না।

জনআকাঙ্খার বিপরীতে গিয়ে এমন একটি আবেদনহীন ও তাৎপর্যহীন সংলাপে অংশ নেয়াটা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সঙ্গত মনে করে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব সময়ই সমঝোতা, সমন্বয় ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা আলাপ আলোচনা ও সংলাপের বিরোধী নই। দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত করতে হলে, সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করতে হলে ফলপ্রুসূ সংলাপের কোন বিকল্প নেই। আর ফলপ্রæসূ সংলাপ হতে হলে সংলাপের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করতে হবে। 

দেশবাসী মনে করে, নির্বাচন কমিশন গঠন নয় বরং সংলাপ হওয়া উচিৎ নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নিয়ে। দেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে হবে, তা নিয়ে সংলাপ হওয়া উচিৎ। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে প্রেসিডেন্ট এমন একটি ফলপ্রæসূ সংলাপের উদ্যোগ নিতে পারেন। জনআকাঙ্খার আলোকে এমন একটি সংলাপ হলে, তাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অবশ্যই অংশ নিবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, চলমান ইউপি নির্বাচনে নৈরাজ্য এবং দস্যুতা সম্পর্কে আপনারা জানেন। সারা দেশের ইউপি নির্বাচনগুলোতে নৈরাজ্যজনক অবস্থাতে দেশে কোন নির্বাচন কমিশন আছে বলে মনে হয় না। ধাপেঁ ধাপেঁ আয়োজিত ইউপি নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেঁই ১০%-এর বেশি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত প্রত্যেকটি জায়গায়ই সরকার দলীয় প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং এমপিরা সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছেন। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার লাকসামে একটি ইউনিয়নেও নির্বাচন হতে দেয়নি। মনোহরগঞ্জ উপজেলায়ও তার লোকজন কাউকে মনোনয়নপত্র তুলতে দিচ্ছেন না। সারা দেশে এ জাতীয় বহু ঘটনা রয়েছে।

তাই যে সব ইউপিতে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন আমরা সে সব ইউনিয়নে আবারো নির্বাচনের দাবী জানাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থীদের উপর বিভিন্নভাবে হুমকি, ধমকি ও জুলুম নির্যাতন করা হয়েছে। যে সব ইউপিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের উপর হামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে, বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জালিয়ে দেয়া হয়েছে আমরা সে সবের সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। দ্রæত সন্ত্রাসী এবং দস্যুদের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন ভিউ