বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

মুরাদের অশ্রাব্য ভাষা শিক্ষা ছাত্রদল করার সময়ে : হানিফ

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান অতীতে ছাত্রদল করতেন। সেখান থেকেই অশ্রাব্য ভাষা শিখেছেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ফেনী শহরের পিটিআই স্কুলমাঠে আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় গতকাল বুধবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিকের মুখে এ ধরনের অশ্রাব্য কথা আসার কথা না। মির্জা ফখরুলের কথায় এখন আমাদের মনে হলো, তিনি ছাত্রদল করতেন বলেই শিক্ষাটা ওখান থেকে এসেছে। যার পরিণতি আমরা হয়তো এখন দেখতে পেলাম।’

 গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতা-কর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। সেখানে বিএনপির রাজনীতির সমালোচনার একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন। নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ ও ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ছিলেন মুরাদ। এর মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে এক চিত্রনায়িকাকে ধর্ষণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

৬ ডিসেম্বর রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুরাদকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। ৭ ডিসেম্বর রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। রাতেই তা গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়। এর মাঝে ৬ তারিখ এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, মুরাদ হাসান একসময় ছাত্রদল করতেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই হানিফ বুধবার এ মন্তব্য করেন।

হানিফ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে বলেন, ‘দণ্ড মওকুফ হলে উনি স্বাধীনভাবে যেকোনো দেশে যেতে পারবেন। দণ্ড মওকুফ করার ক্ষমতা সংবিধান মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করলেই স্বাধীন হিসেবে যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন। কেন বিএনপি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন না করে প্রেসক্লাবের সামনে নাটক করছে, সেটাই জাতির জিজ্ঞাসা।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন ভিউ